ভূমিকাঃ
মানবদেহের প্রায় ৭০% অংশই পানি দিয়ে গঠিত। বেঁচে থাকার জন্য যেমন অক্সিজেন দরকার, তেমনি সুস্থ থাকার জন্য পর্যাপ্ত পানি খাওয়া সমান গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই পানি কম খেয়ে নানা ধরনের শারীরিক সমস্যায় ভোগেন। আজকের পোস্টে আমরা জানবো পানি খাওয়ার উপকারিতা, দিনে কতটুকু পানি খাওয়া উচিত এবং পানি কম খেলে কী কী সমস্যা হতে পারে।
পানি খাওয়ার ৫টি উপকারিতাঃ
১. শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে
পানি শরীরের কোষ, টিস্যু এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে সাহায্য করে। পর্যাপ্ত পানি খেলে ক্লান্তি কমে এবং শরীর সতেজ থাকে।
২. হজম শক্তি বৃদ্ধি করে
খাবার হজমে পানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নিয়মিত পানি খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয় এবং হজম প্রক্রিয়া উন্নত হয়।
৩. ত্বক সুন্দর রাখে
যারা নিয়মিত পর্যাপ্ত পানি খান, তাদের ত্বক টানটান ও উজ্জ্বল থাকে। পানি শরীর থেকে টক্সিন বের করে দেয়, ফলে ব্রণ ও ত্বকের দাগ কমে যায়।
৪. শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে
গরমে ঘাম ঝরার সময় পানি শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। ফলে শরীর ঠান্ডা থাকে এবং হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে যায়।
৫. কিডনিকে সুস্থ রাখে
পর্যাপ্ত পানি না খেলে কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি থাকে। পানি প্রস্রাবের মাধ্যমে ক্ষতিকর পদার্থ বের করে দিয়ে কিডনিকে সুস্থ রাখে।
দিনে কতটুকু পানি খাওয়া উচিত?
সাধারণত একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দিনে ২–৩ লিটার (৮–১০ গ্লাস) পানি খাওয়া প্রয়োজন। তবে কারো শারীরিক অবস্থা, বয়স, ওজন, আবহাওয়া ও কাজের ধরণ অনুযায়ী এই পরিমাণ কমবেশি হতে পারে।
বয়স/শ্রেণি- প্রয়োজনীয় পানি (প্রতিদিন)
শিশু (৬–১২ বছর)- ১–১.৫ লিটার
কিশোর/কিশোরী- ১.৫–২ লিটার
প্রাপ্তবয়স্ক নারী- ২–২.৫ লিটার
প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ- ২.৫–৩ লিটার
পানি কম খেলে কী সমস্যা হয়?
- মাথা ব্যথা ও ক্লান্তি দেখা দিতে পারে।
- ত্বক রুক্ষ হয়ে যায়।
- হজমের সমস্যা ও কোষ্ঠকাঠিন্য হয়।
- কিডনিতে পাথর হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।
- শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়।
উপসংহারঃ
পানি আমাদের জীবনের অপরিহার্য উপাদান। প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি খেলে শরীর হাইড্রেটেড থাকে, ত্বক সুন্দর হয়, হজম ভালো হয় এবং কিডনি সুস্থ থাকে। তাই সুস্থ থাকার জন্য আজ থেকেই নিয়মিত পর্যাপ্ত পানি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
