শেরপুর জেলা সম্পর্কে
ঐতিহাসিক ও ভৌগোলিক তথ্য
* নামকরণ ও ইতিহাস:
শেরপুর" নামটি প্রাচীন ইতিহাসে খুঁজে পাওয়া যায় না। প্রাচীনকালে শেরপুরকে গড় জারিপা বলা হত। মুঘল সম্রাট আকবরের শাসনামলে এই অঞ্চলের নাম ছিল দশ কাহোনিয়া বাজু (বর্তমানে দাসকাহোনিয়া ২ নং চরশেরপুর ইউনিয়নের একটি গ্রাম নামে পরিচিত)। এই অঞ্চলে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদীর পূর্ব নাম ছিল লৌহিত সাগর যা শেরপুর পৌরসভার দক্ষিণ সীমানা থেকে জামালপুর ঘাট পর্যন্ত বিস্তীর্ণ অঞ্চলে অবস্থিত ছিল। এই অঞ্চলের মানুষ নদীতে ভ্রমণের জন্য বার্ষিক কর হিসেবে ইজারাদারদের ১০ কাহোন মুদ্রা দিতে হত। "দাশ" অর্থ দশ এবং "কাহোন" হল গণনার একক যার অর্থ ১২৮টি। এই ঘটনা থেকে এই অঞ্চলটিকে "দাশ কাহোনিয়া" বলা হত।বাংলার নবাবী আমলে গাজী বংশের শেষ জমিদার শের আলী গাজী এই অঞ্চলটি স্বাধীনভাবে দখল করে রাজত্ব করেছিলেন। এরপর থেকে, শাসক শের আলী গাজীর নাম অনুসারে এই অঞ্চলের নাম "দাশ কাহোনিয়া" থেকে "শেরপুর" রাখা হয়।
* ভৌগোলিক অবস্থান:
শেরপুর জেলা বাংলাদেশের ময়মনসিংহ বিভাগের উত্তর প্রান্তে অবস্থিত। এর উত্তরে ভারতের মেঘালয় রাজ্য, দক্ষিণে ময়মনসিংহ ও জামালপুর জেলা, পূর্বে ময়মনসিংহ ও জামালপুর জেলা এবং পশ্চিমে জামালপুর জেলা। জেলাটির আয়তন প্রায় ১,৩৬৪ বর্গ কিলোমিটার।
![]() |
| শেরপুর জেলার ভৌগোলিক অবস্থান |
* ভূ-প্রকৃতি:
শেরপুর জেলার ভূ-প্রকৃতি বৈচিত্র্যময়। এর উত্তর অংশ গারো পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত, যেখানে টিলা, শালবন ও নদী রয়েছে। দক্ষিণে মূলত সমভূমি, যা কৃষিকাজের জন্য খুবই উপযোগী। প্রধান নদীগুলো হলো ব্রহ্মপুত্র, মৃগী, কংস ও মহারশী।
জনসংখ্যা ও সংস্কৃতি
* জনসংখ্যা:
২০২১ সালের জনশুমারি অনুযায়ী, শেরপুর জেলার জনসংখ্যা প্রায় ১৫,০০,০০০ জন। এখানে মুসলিম, হিন্দু, খ্রিস্টানসহ বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীর মানুষ বসবাস করে। পাশাপাশি, গারো, কোচ, হাজং ও বর্মণসহ বিভিন্ন আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বাস রয়েছে।
* ঐতিহ্য ও উৎসব:
এই জেলার নিজস্ব লোকসংস্কৃতি বেশ সমৃদ্ধ। গারো আদিবাসীদের 'ওয়ানগালা' উৎসব এখানে খুব জনপ্রিয়। এছাড়াও, পহেলা বৈশাখ, দুর্গাপূজা, ঈদসহ অন্যান্য ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসবগুলো এখানে বেশ জাঁকজমকের সঙ্গে পালিত হয়।
* ঐতিহ্যবাহী খাবার:
শেরপুরের ঐতিহ্যবাহী খাবারের মধ্যে আছে ‘ছানার পায়েস’, যা স্থানীয়ভাবে খুব জনপ্রিয়। এছাড়াও, বিভিন্ন ধরনের পিঠা, পোলাও ও স্থানীয় সবজির তরকারি এখানে প্রচলিত।
অর্থনীতি ও জীবনযাত্রা
* অর্থনীতি:
শেরপুরের অর্থনীতি মূলত কৃষিনির্ভর। এখানকার মাটি উর্বর হওয়ায় ধান, পাট, গম, আলু, সরিষা, ভুট্টা এবং বিভিন্ন সবজি প্রচুর পরিমাণে উৎপাদিত হয়। আনারস, কাঁঠাল ও কলা এখানকার প্রধান ফল।
* কুটির শিল্প:
এই জেলার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ভিত্তি হলো কুটির শিল্প। নকশি কাঁথা, মাটির তৈরি জিনিস, বাঁশ ও বেতের হস্তশিল্প এবং তাঁতশিল্প এখানে বেশ প্রচলিত।
* যোগাযোগ ব্যবস্থা:
শেরপুর জেলায় সড়কপথে যাতায়াত ব্যবস্থা বেশ উন্নত। ঢাকা থেকে সরাসরি বাস যোগাযোগ রয়েছে। তবে এখানে কোনো রেলপথ বা বিমানবন্দর নেই।
দর্শনীয় স্থান
* গড়জরিপা বারো দুয়ারী:
এটি একটি ঐতিহাসিক দুর্গ, যা মুঘল আমলে নির্মিত হয়েছিল বলে মনে করা হয়।
* মধু টিলা ইকোপার্ক:
মধুটিলা ইকোপার্ক বাংলাদেশের শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার গারো পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত একটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। এটি প্রকৃতির কোলে সময় কাটানো এবং পাহাড়ি সৌন্দর্য উপভোগের জন্য চমৎকার একটি জায়গা। নিচে এই পার্কটি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হলো:
![]() |
| মধুটিলা ইকো পার্ক |
অবস্থান ও প্রকৃতি
মধুটিলা ইকোপার্কটি শেরপুর শহর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এটি গারো পাহাড়ের প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে তোলা হয়েছে, যেখানে শাল-গজারি বনের পাশাপাশি নানা ধরনের উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেখা মেলে। পাহাড়, টিলা ও সবুজ বনানী এই পার্কের প্রধান আকর্ষণ। পার্কের ভেতর দিয়ে বয়ে চলা আঁকাবাঁকা পথ পর্যটকদের হেঁটে চলার জন্য খুবই আরামদায়ক।
প্রধান আকর্ষণ
* ওয়াচ টাওয়ার: পার্কের একটি অন্যতম আকর্ষণ হলো এর ওয়াচ টাওয়ার। এই টাওয়ারের চূড়ায় উঠে চারপাশের পাহাড়ি দৃশ্য, টিলা, বন ও মেঘালয়ের পাহাড়ের একাংশ দেখা যায়।
* লেক ও প্যাডেল বোট: মধুটিলা ইকোপার্কের ভেতরে একটি কৃত্রিম লেক রয়েছে। এখানে প্যাডেল বোটে করে লেকের মনোরম পরিবেশে ঘোরা যায়।
* শিশু পার্ক: এখানে শিশুদের জন্য বিভিন্ন রাইড ও খেলার ব্যবস্থা রয়েছে।
* হরিণ ও বিভিন্ন প্রাণীর বিচরণ: পার্কের ভেতরে কৃত্রিমভাবে হরিণ ও অন্যান্য ছোট প্রাণী রাখা হয়েছে, যা পর্যটকদের আকর্ষণ করে।
সুযোগ-সুবিধা
* পিকনিক স্পট: পিকনিক বা দলগত ভ্রমণের জন্য এখানে বেশ কিছু স্পট ও ছাউনি রয়েছে।
* ক্যান্টিন ও রেস্টুরেন্ট: খাবারের জন্য এখানে ছোট ছোট রেস্টুরেন্ট ও ক্যান্টিন আছে, যেখানে স্থানীয় খাবার পাওয়া যায়।
* কটেজ: রাতে থাকার জন্য এখানে বেশ কিছু কটেজও রয়েছে।
কীভাবে যাবেন?
ঢাকা থেকে সড়কপথে সরাসরি শেরপুর যেতে পারেন। সেখান থেকে সিএনজি বা স্থানীয় বাসে করে ঝিনাইগাতী উপজেলা হয়ে মধুটিলা ইকোপার্কে পৌঁছানো যায়। ব্যক্তিগত গাড়িতে গেলে পার্কের নিজস্ব পার্কিং সুবিধা রয়েছে।
মধুটিলা ইকোপার্ক প্রকৃতিপ্রেমী, পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য একটি দারুণ স্থান। পাহাড়ি সৌন্দর্য, শান্ত পরিবেশ এবং বিভিন্ন রাইডের কারণে এটি সব বয়সী মানুষের কাছেই বেশ জনপ্রিয়।
* গজনী অবকাশ কেন্দ্র:
বাংলাদেশের শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলায় অবস্থিত একটি চমৎকার পর্যটন স্থান। এটি গারো পাহাড়ের পাদদেশে এবং ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের খুব কাছে অবস্থিত। এটি শেরপুর জেলার অন্যতম জনপ্রিয় একটি আকর্ষণীয় কেন্দ্র। এটি একটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র, যেখানে পাহাড়ি সৌন্দর্য ও কৃত্রিম লেকের সমন্বয় রয়েছে।
![]() |
| গজনী অবকাশ কেন্দ্র |
অবস্থান ও পরিবেশ
গজনী অবকাশ কেন্দ্র শেরপুর শহর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এটি পাহাড়, টিলা, বন ও কৃত্রিম লেকের সমন্বয়ে গঠিত একটি মনোরম স্থান। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং শান্ত পরিবেশের কারণে এটি পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য খুবই উপযুক্ত।
প্রধান আকর্ষণ
* লেক ও প্যাডেল বোট: এখানে একটি কৃত্রিম লেক আছে, যেখানে প্যাডেল বোট চালানোর ব্যবস্থা রয়েছে। লেকের মধ্যে একটি ভাসমান রেস্টুরেন্টও আছে।
* ওয়াচ টাওয়ার: পার্কের উঁচু স্থানে একটি ওয়াচ টাওয়ার আছে, যেখান থেকে চারপাশের পাহাড়ি দৃশ্য এবং ভারতের মেঘালয় রাজ্যের পাহাড়ি অঞ্চল দেখা যায়।
* শিশু পার্ক: শিশুদের জন্য এখানে বিভিন্ন ধরনের রাইড ও খেলার ব্যবস্থা রয়েছে।
* সাঁকো ও ঝুলন্ত ব্রিজ: কৃত্রিম লেকের উপর দিয়ে একটি ঝুলন্ত ব্রিজ এবং বিভিন্ন ধরনের সাঁকো তৈরি করা হয়েছে, যা পর্যটকদের আকর্ষণ করে।
* আদিবাসী গ্রাম ও সংগ্রহশালা: এখানে গারোসহ বিভিন্ন আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা ও সংস্কৃতি তুলে ধরা হয়েছে। একটি ক্ষুদ্র সংগ্রহশালায় তাদের ব্যবহৃত জিনিসপত্র ও হস্তশিল্প দেখতে পাওয়া যায়।
* জলপ্রপাত: কৃত্রিমভাবে তৈরি একটি ছোট জলপ্রপাত রয়েছে, যা প্রাকৃতিক পরিবেশের সঙ্গে দারুণভাবে মিশে গেছে।
* নৌকা ভাস্কর্য: একটি বিশাল নৌকা ভাস্কর্য এখানে তৈরি করা হয়েছে, যা দর্শনার্থীদের মনোযোগ আকর্ষণ করে।
সুযোগ-সুবিধা
* পিকনিক স্পট: পিকনিক বা দলগত ভ্রমণের জন্য এখানে পর্যাপ্ত স্থান ও ছাউনি রয়েছে।
* ক্যান্টিন ও রেস্টুরেন্ট: খাবারের জন্য এখানে বেশ কিছু ছোট রেস্টুরেন্ট ও ক্যান্টিন রয়েছে।
* কটেজ: রাতে থাকার জন্য এখানে বেশ কিছু কটেজ ও রেস্ট হাউজ আছে।
কিভাবে যাবেন?
ঢাকা থেকে বাস বা ব্যক্তিগত গাড়িতে সরাসরি শেরপুর শহরে পৌঁছানো যায়। শেরপুর শহর থেকে সিএনজি, অটোরিকশা বা স্থানীয় বাসে করে গজনী অবকাশ কেন্দ্রে যেতে পারেন। এটি সহজেই যাতায়াতের জন্য খুবই সুবিধাজনক।
গজনী অবকাশ কেন্দ্র প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, বিনোদনমূলক রাইড এবং শান্ত পরিবেশের কারণে সব বয়সী পর্যটকদের কাছে একটি দারুণ গন্তব্য।
* নাকুগাঁও স্হল-বন্দর:
বাংলাদেশের শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলায় অবস্থিত এবং ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্যিক কার্যক্রমের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থলপথ।
![]() |
| নাকুগাঁও স্হল-বন্দর |
নাকুগাঁও স্থলবন্দর সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:
- অবস্থান: এটি শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার নাকুগাঁও গ্রামে অবস্থিত। এটি ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের খুব কাছে হওয়ায় দুই দেশের মধ্যে পণ্য আমদানি-রপ্তানিতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- গুরুত্ব: এই বন্দরটি মূলত ভারত থেকে বিভিন্ন পণ্য, বিশেষ করে পাথর, কয়লা, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য কৃষিপণ্য আমদানির জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি স্থানীয় এবং আঞ্চলিক অর্থনীতির জন্য একটি প্রধান কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে।
- পার্কিং সুবিধা: বন্দরে পণ্যবাহী ট্রাক ও লরিগুলোর জন্য বিশাল পার্কিং এরিয়া রয়েছে।
- প্রশাসনিক কার্যক্রম: বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে এর সকল বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এটি ২৪ ঘণ্টাই খোলা থাকে।
স্থানীয় অর্থনীতির পাশাপাশি এটি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বৃদ্ধিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দর হিসেবে কাজ করে।
* ঝিনাইগাতী রাবার বাগান:
এটি বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ রাবার বাগান।
প্রশাসন ও অবকাঠামো
* প্রশাসনিক কাঠামো:
শেরপুর জেলা ৫টি উপজেলায় বিভক্ত: শেরপুর সদর, নকলা, নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী।
* শিক্ষাব্যবস্থা:
শেরপুর জেলার শিক্ষাব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে উন্নত এবং এটি প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত বিস্তৃত। জেলাটি সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দ্বারা পরিচালিত হয়।
প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা
শেরপুর জেলায় অসংখ্য সরকারি ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মাধ্যমিক স্তরে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি উচ্চ বিদ্যালয় রয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার জন্য প্রস্তুত করে। এখানে শিক্ষার্থীদের জন্য বিজ্ঞান, মানবিক এবং বাণিজ্য শাখা নির্বাচন করার সুযোগ রয়েছে।
উচ্চ শিক্ষা
- কলেজ: শেরপুর জেলায় উচ্চশিক্ষার জন্য একাধিক সরকারি ও বেসরকারি কলেজ রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো শেরপুর সরকারি কলেজ। এই কলেজটি বিজ্ঞান, মানবিক, এবং বাণিজ্যসহ বিভিন্ন বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি প্রদান করে। এছাড়াও, এখানে আরও কয়েকটি বেসরকারি কলেজ রয়েছে।
- কারিগরি ও পেশাগত শিক্ষা: কারিগরি শিক্ষার প্রসারে শেরপুরে একটি সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট রয়েছে। এখানে বিভিন্ন প্রকৌশল বিষয়ে ডিপ্লোমা কোর্স করানো হয়। এছাড়াও, জেলার বিভিন্ন স্থানে ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টার এবং কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের কর্মমুখী শিক্ষায় সহায়তা করে।
- অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান: ধর্মীয় শিক্ষার জন্য এখানে মাদ্রাসাও রয়েছে। এছাড়াও, কিন্ডারগার্টেন এবং ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলও ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা লাভ করছে।
শিক্ষা ব্যবস্থায় চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা
শেরপুরের শিক্ষাব্যবস্থা উন্নত হলেও কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। যেমন, প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং ডিজিটাল শিক্ষার বিস্তার এখনও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে, সরকার এবং বেসরকারি উদ্যোগে এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করার চেষ্টা চলছে। ভবিষ্যতে কারিগরি ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও বাড়িয়ে শেরপুর জেলার শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও সমৃদ্ধ করার সম্ভাবনা রয়েছে।
* স্বাস্থ্যসেবা:
শেরপুর জেলার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে সুসংগঠিত এবং এটি সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতের হাসপাতাল, ক্লিনিক ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র দ্বারা পরিচালিত হয়।
সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা:
- সদর হাসপাতাল: শেরপুর জেলা সদরে একটি আধুনিক ও উন্নতমানের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল রয়েছে। এটি জেলার প্রধান স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র এবং এখানে বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা সেবা, যেমন—সাধারণ সার্জারি, গাইনি, জরুরি সেবা এবং প্যাথলজি টেস্টের ব্যবস্থা রয়েছে।
- উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স: জেলার প্রতিটি উপজেলায় একটি করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স রয়েছে। এগুলো স্থানীয় মানুষের জন্য প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করে। এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে সাধারণ রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা, প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা এবং টিকাদান কর্মসূচির মতো সেবাগুলো পাওয়া যায়।
- কমিউনিটি ক্লিনিক: গ্রামীণ এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রতিটি ইউনিয়নে কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করা হয়েছে। এসব ক্লিনিকে সাধারণ রোগ নির্ণয়, ওষুধ বিতরণ এবং স্বাস্থ্য সংক্রান্ত পরামর্শ দেওয়া হয়।
বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা:
- বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক: সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি শেরপুর জেলায় বেশ কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক গড়ে উঠেছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলো উন্নতমানের চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের বিশেষায়িত সেবা প্রদান করে, যেমন—ডায়াগনস্টিক, সার্জারি ও অন্যান্য বিশেষ চিকিৎসা।
- ডায়াগনস্টিক সেন্টার: জেলা শহর এবং উপজেলাগুলোতে বেশ কিছু আধুনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে, যেখানে বিভিন্ন ধরনের প্যাথলজিক্যাল ও রেডিওলজিক্যাল টেস্ট করা হয়।
স্বাস্থ্যসেবায় চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা:
শেরপুরের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাব, চিকিৎসা সরঞ্জামের অপর্যাপ্ততা এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছানো এখনও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে, সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ এবং বেসরকারি খাতের বিনিয়োগের মাধ্যমে এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে আরও আধুনিক হাসপাতাল ও ক্লিনিক স্থাপন, চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ এবং কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর কার্যকারিতা বাড়িয়ে জেলার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করার সম্ভাবনা রয়েছে।




