আপনার ব্লগ সাইটের সেটিংস সঠিকভাবে সাজিয়ে নিন

ব্লগারে সফলতার চাবিকাঠি: আপনার ব্লগের সেটিংস সঠিকভাবে সাজিয়ে নিন
আপনার ব্লগ সাইটের   সেটিংস সঠিকভাবে সাজিয়ে নিন




আপনি কি ব্লগার প্ল্যাটফর্মে একটি ব্লগসাইট খুলেছেন কিন্তু জানেন না কোথা থেকে শুরু করবেন? আপনার ব্লগটিকে সার্চ ইঞ্জিনে দৃশ্যমান করতে এবং পাঠকদের কাছে আরও পেশাদার দেখাতে ব্লগার সেটিংস (Blogger settings) সঠিকভাবে সাজানো খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

অনেকেই ভাবেন যে শুধু সুন্দর কনটেন্ট লিখলেই হবে, কিন্তু সঠিক সেটিংস ছাড়া আপনার ব্লগটি অনেক পাঠকের কাছে পৌঁছাতেই পারবে না। এই ব্লগ পোস্টে আমরা ব্লগারে থাকা প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সেটিংসের বিস্তারিত আলোচনা করব, যা আপনার ব্লগিং যাত্রাকে অনেক সহজ করে তুলবে।

১. মৌলিক সেটিংস (Basic Settings)

ব্লগারের এই অংশটি আপনার ব্লগের প্রাথমিক পরিচয় বহন করে।

 * Title (শিরোনাম): আপনার ব্লগের একটি আকর্ষণীয় ও সহজবোধ্য নাম দিন। নামটি যেন আপনার ব্লগের বিষয়বস্তুর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। এটি আপনার ব্র্যান্ডিং-এর জন্য খুবই জরুরি।

 * Description (বিবরণ): এখানে আপনার ব্লগের একটি সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দিন। এই বর্ণনাটি গুগলে আপনার ব্লগের নামের নিচে দেখানো হয়, যা পাঠকদের আপনার ব্লগ সম্পর্কে ধারণা দেয়। এখানে আপনার ব্লগের প্রধান কী-ওয়ার্ডগুলো ব্যবহার করতে পারেন।

 * Blog Address (ব্লগের ঠিকানা): এটি হলো আপনার ব্লগের ইউআরএল (URL)। যেমন: reviewbarta.blogspot.com। আপনি যদি পেশাদার ব্লগিং করতে চান, তাহলে একটি কাস্টম ডোমেইন (Custom Domain) ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

২. গোপনীয়তা (Privacy)

এই সেটিংসটি খুবই সহজ, কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ।

 * Visible to search engines (সার্চ ইঞ্জিনের কাছে দৃশ্যমান): এই অপশনটি সবসময় চালু (On) রাখবেন। এটি গুগল এবং অন্যান্য সার্চ ইঞ্জিনকে আপনার ব্লগ খুঁজে পেতে এবং তাদের ফলাফলে দেখাতে সাহায্য করে। যদি এটি বন্ধ থাকে, তাহলে গুগল আপনার ব্লগকে খুঁজে পাবে না।

৩. প্রকাশনা (Publishing)

এই সেটিংসে আপনি আপনার ব্লগের ঠিকানা পরিবর্তন করতে পারেন।

 * Custom Domain (কাস্টম ডোমেইন): যদি আপনি চান আপনার ব্লগের ঠিকানা yourname.com বা .net হোক, তাহলে একটি ডোমেইন কিনে এই সেকশনে যুক্ত করতে পারেন। একটি কাস্টম ডোমেইন আপনার ব্লগকে আরও পেশাদার এবং বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে।

৪. পোস্ট, মন্তব্য এবং শেয়ার (Posts, Comments, and Sharing)

এই সেটিংসগুলো আপনার ব্লগের ইন্টারঅ্যাকশন নিয়ন্ত্রণ করে।

 * Max posts shown on main page (মূল পেজে সর্বাধিক পোস্ট সংখ্যা): এখানে আপনি ঠিক করতে পারেন যে আপনার ব্লগের হোমপেজে একসাথে কয়টি পোস্ট দেখানো হবে। এটি আপনার ব্লগের লোডিং স্পিডকে প্রভাবিত করতে পারে। সাধারণত ৫ থেকে ৭টি পোস্ট দেখানো ভালো।

 * Who can comment? (কে মন্তব্য করতে পারে?): আপনি এখানে ঠিক করতে পারেন কারা আপনার পোস্টে মন্তব্য করতে পারবে। যেমন: শুধু নিবন্ধিত ব্যবহারকারী, অথবা সবাই।

   টির মাধ্যমে আপনি আপনার ব্লগের মন্তব্যগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন।

 * Comment Moderation (মন্তব্য মডারেসন): এই অপশনটি চালু করে রাখলে কোনো মন্তব্য প্রকাশ হওয়ার আগে আপনি তা অনুমোদন করতে পারবেন। এর ফলে স্প্যাম বা আপত্তিকর মন্তব্য আপনার ব্লগে আসতে পারবে না।

৫. সার্চ পছন্দ (Search Preferences)

এটি আপনার ব্লগের এসইও (SEO)-এর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

 * Meta tags (মেটা ট্যাগস): এই অপশনটি চালু (Enable) করে একটি সংক্ষিপ্ত এবং কী-ওয়ার্ড সমৃদ্ধ বর্ণনা (Description) লিখুন। এই বর্ণনাটি গুগলে আপনার ব্লগের নামের নিচে দেখা যায়।

 * Custom Redirects (কাস্টম পুনর্নির্দেশ): যখন আপনার কোনো পোস্টের ঠিকানা পরিবর্তন করেন বা একটি পোস্ট ডিলিট করেন, তখন পুরনো ইউআরএল-এ আসা ভিজিটররা যাতে একটি "404 Error" না দেখে, তার জন্য এই অপশনটি ব্যবহার করা হয়। আপনি পুরনো ইউআরএল থেকে নতুন ইউআরএল-এ ভিজিটরদের রিডিরেক্ট করতে পারেন।

 * Custom robots.txt (কাস্টম রোবটস.টিএক্সটি): এটি গুগলকে বলে দেয় আপনার ব্লগের কোন পেজগুলো ক্রল করা উচিত এবং কোনগুলো নয়। সাধারণত নতুনদের জন্য এটি পরিবর্তন করার দরকার হয় না। তবে অভিজ্ঞ ব্লগাররা নির্দিষ্ট পেজ লুকিয়ে রাখতে এটি ব্যবহার করেন।

উপসংহার

ব্লগার সাইটের সেটিংসগুলো সঠিকভাবে জানা এবং ব্যবহার করা একটি সফল ব্লগের ভিত্তি তৈরি করে। আপনি যদি আপনার ব্লগকে গুগল সার্চে ভালো র‍্যাঙ্ক করাতে চান এবং একটি পেশাদার চেহারা দিতে চান, তাহলে এই সেটিংসগুলো নিয়মিত পরীক্ষা করা এবং আপডেট করা খুবই জরুরি।

আজই আপনার ব্লগের সেটিংসে প্রবেশ করুন এবং উপরে আলোচনা করা বিষয়গুলো ঠিকঠাক আছে কিনা তা দেখে নিন।






About the author

Amdad
I am a simple person, I love to learn new things. I try to take something from every experience in life.

1 comment

  1. Rakib Hassan
    Rakib Hassan
    কাষ্টম রোবট.টিএক্সটি কিভাবে তৈরী করবো?